সুরা ফাতিহার আলোকে ইসলামি আকিদা ও মানহায

মহামহিম আল্লাহর ইবাদত পালনই মানব-সৃষ্টির অভিষ্ট লক্ষ্য। ‘ইবাদাহ’ মানে দাসত্ব। এই দাসত্ব ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। এখানে সালাত, সওম, হজ, জাকাত, জিহাদ, কিতাল যেমন আছে; আছে ইবাদতের আরও একটা বিস্তৃত ক্ষেত্র। যেটা প্রথমটার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ। সেটার নামই হলো, আকাইদ-বিশ্বাস। এ বিশ্বাস শুধু কালিমার শব্দবন্ধ আওড়ানোর নাম নয়; এটা কালিমার মর্মবাণী হৃদয়ে ধারণ করার নাম। এ বিশ্বাসে পূর্ণ দাসত্ব প্রকাশ না পেলে কেউ মুমিন হিসেবে স্বীকৃতি পায় না।

ইবাদতই মানবের পরম পালনীয়, লালনীয় বিষয়। তবে যাঁর ইবাদত করব তাকে না চিনলে, না জানলে কী করে সম্ভব, নির্দ্বিধ তাঁর প্রতি সমর্পিত হওয়া? তাঁর বড়ত্বে, মহত্ত্বে চিত্ত যদি নিঃসংশয়, নির্দ্বিধ না হয়, তাহলে এ ইবাদত আখেরে ভালো কোনো ফল বয়ে আনবে না। তাই আল্লাহ চান প্রথমে বান্দা তাকে চিনুক, জানুক; তাঁর প্রতি সমর্পিত হোক। এ সমর্পণের নামই ইমান-বিশ্বাস।

কোরআনকে হিদায়াতগ্রন্থ বলা হয়েছে। পুরো কোরআনজুড়ে বান্দাকে সম্বোধন করে করণীয়-বর্জনীয় বিষয়ে বিশদ বিবরণ দেওয়া হয়েছে। কোরআনের ১১৪ টি সুরার প্রাণ ও নির্যাস বলা হয়েছে সুরা আল-ফাতিহাকে। মাত্র ৭টি আয়াতে পুরো দীনটাই মহান আল্লাহ বিবৃত করেছেন। সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয় হলো এ সুরায় যে তাওহীদুল আকাইদের সাথে তাওহীদুল আমালিয়্যার আলোচনাও এসেছে তা আমরা ক’জন জানি? আল্লাহ রাব্বুল আলামিন অত্যন্ত নিবিড় আলাপে, তাঁর সত্তা ও গুণ-বৈশিষ্ট্যের কথা; হেদায়াতের কথা এ-সুরায় তুলে ধরেছেন।

বক্ষ্যমাণ বইটির লেখক মুহতারাম আলী হাসান উসামার ইলমে আল্লাহ বরকত দিন। তিনি তাওহীদের আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নির্দ্বিধায় তুলে ধরেছেন। মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়েও সালাফের অবস্থানের পক্ষে তত্ত্বের সমারোহ ঘটিয়েছেন। আশা করি বোদ্ধা পাঠকও এ বইতে ইলমের খোরাক পাবেন।

সুরা আল-ফাতিহার আলোকে মুমিনের যাপিত জীবন কেমন হওয়া উচিত তার সাবলীল নির্দেশনা পাবেন এ বইতে। ব্যক্তিক গণ্ডি ছাড়িয়ে উম্মাহর চিন্তা-দর্শন, কর্মনীতি কেমন হওয়া উচিত তারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এ বইতে।

আল্লাহ এ মহৎ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টা কবুল করুন। আমীন।

৳ 192.00